বিশ্বজুড়ে দক্ষ নার্সের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, কানাডা ও জার্মানির মতো উন্নত দেশগুলোতে নার্সের ঘাটতি তীব্র হচ্ছে। এই বিশাল সুযোগের সামনে বাংলাদেশ কতটুকু কাজে লাগাতে পারছে?
বিদেশে কত বেতন পান বাংলাদেশি নার্সরা?
- বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নার্সরা মাসে টাকা ১ লাখ থেকে ১.৫ লাখ পর্যন্ত আয় করেন।
- বাংলাদেশে একই পেশায় মাত্র টাকা ৩০,০০০-এর কম বেতন মেলে।
- সৌদি আরবের সরকারি হাসপাতালে কর্মরত এক নার্স রিয়াদে মাসে প্রায় Tk৯৮,০০০ আয় করছেন।
কোন দেশে চাহিদা বেশি?
- উপসাগরীয় দেশ: সৌদি আরব, কুয়েত, UAE, কাতার, ওমান — বয়স্ক জনগোষ্ঠী ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণে নার্সের চাহিদা বাড়ছে।
- উন্নত দেশ: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, কানাডা, জার্মানি — বার্ধক্য জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট থেকে চাহিদা।
বাস্তবে কী পরিস্থিতি?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, দক্ষ অভিবাসী নার্সের চাহিদা বাড়ার মূল কারণ হলো উন্নত দেশে বার্ধক্য জনগোষ্ঠী ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি।
- বাংলাদেশ থেকে মাত্র ৫.১% নার্স সরকারি চ্যানেলে বিদেশ গেছেন।
- ২০২৪ সালে সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে ৫০০ নার্স নেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেয়, কিন্তু মাত্র ৩০০ জন আবেদন করেন এবং ২১৫ জন চাকরি পান।
- কুয়েত ২০২৫ সালে বিওইএসএলের মাধ্যমে ১০০ নার্স নিতে চেয়েছিল।
কী কী বাধা রয়েছে?
- ভাষাগত দক্ষতা: ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায় দুর্বলতা।
- প্রত্যয়নপত্র: সৌদি প্রমেট্রিক, NCLEX (যুক্তরাষ্ট্র), NMC (যুক্তরাজ্য) পরীক্ষায় পাস বাধ্যতামূলক।
- অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ৩ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা লাগে।
- সরকারি চ্যানেলের সীমাবদ্ধতা: মাত্র ৫.১% নার্স সরকারি উপায়ে বিদেশ গেছেন।
সুযোগ কাজে লাগাতে হলে কী করতে হবে?
- নার্সিং পাসের পরপরই ইংরেজি দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগ দিন।
- বিওইএসএলের ওয়েবসাইটে নিয়মিত নার্সিং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খোঁজ রাখুন।
- সৌদি প্রমেট্রিক বা NCLEX প্রস্তুতির জন্য প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হন।
- বিদেশে কর্মরত নার্সদের সাথে নেটওয়ার্কিং করুন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু গালফ বাজারেই সীমিত থাকলেও বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে নার্সিং খাত থেকে বার্ষিক ১০-১৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স অর্জন করতে পারে।
