মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের জন্য নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম টুরাপ (TURAP — Universal Recruitment Advanced Platform) চালু করার পরিকল্পনায় দেশটির ৭ জন সংসদ সদস্য (এমপি) আজ তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে এই নতুন ব্যবস্থা আবারও একটি বেসরকারি কোম্পানির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ তৈরি করতে পারে — যা আগে পুরনো FWCMS কেলেঙ্কারির সময় হয়েছিল।
টুরাপ কী এবং কেন আপত্তি?
- টুরাপ হলো মালয়েশিয়ার প্রস্তাবিত নতুন বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম
- লক্ষ্য: দালালদের বাদ দিয়ে সরাসরি নিয়োগকর্তা ও শ্রমিকদের সংযোগ, নিয়োগ খরচ কমানো
- কিন্তু ৭ এমপির অভিযোগ: পুরনো বিতর্কিত কোম্পানি বেস্টিনেট (Bestinet) আবার এই ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় ভূমিকায়
- বেস্টিনেট আগে FWCMS পরিচালনা করেছে — যা ৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই চলেছিল
বাংলাদেশের জন্য কী মানে?
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ৮ লাখ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নিয়োগ ২০২৪ সালের জুন থেকে FWCMS অনিয়মের কারণে বন্ধ রয়েছে। যদি টুরাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হয়, তাহলে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হতে পারে।
৭ এমপির দাবি
- টুরাপ বাস্তবায়ন স্থগিত রাখতে হবে যতক্ষণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হয়
- মন্ত্রিসভায় আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রমাণ দিতে হবে
- "ডিজিটাইজেশন একা সংস্কার নিশ্চিত করে না — স্বচ্ছতা, প্রয়োগ ও জবাবদিহিতা না থাকলে আমরা শুধু পুরনো শোষণকেই ডিজিটাল করব"
সাম্প্রতিক পটভূমি
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান সম্প্রতি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে বৈঠকে শ্রমিক কল্যাণ ও নিয়োগ ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই বৈঠকের পরপরই টুরাপ প্রশ্নে এমপিদের আপত্তি এসেছে, যা বিষয়টির জটিলতা স্পষ্ট করে।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার
