গত ২৯ জুন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে প্রায় ৫৩০ জন রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীকে নিয়ে দুটি নৌকা রওনা দিয়েছিল মালয়েশিয়ার উদ্দেশে। সেই থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বর্ষা মৌসুমে উত্তাল সাগরে সন্ধান কাজও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কীভাবে হয়েছে এই মর্মান্তিক ঘটনা?
- নৌকাগুলো ছিল পুরনো মাছ ধরার ট্রলার, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ বোঝাই করা হয়েছিল
- যাত্রীদের প্রায় অর্ধেক ছিল নারী ও শিশু
- গন্তব্য ছিল মিয়ানমারের দক্ষিণ উপকূল হয়ে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সীমান্ত
- সাধারণত এই যাত্রা ১ থেকে ১০ দিনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা, কিন্তু এবার কোনো সংবাদ নেই
পাচারকারীদের কৌশল ও মানব পাচারের জাল
বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াজুড়ে মানব পাচারকারীদের বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। পাচারকারীরা আবার থাইল্যান্ডকে প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছে:
- বড় মাদার শিপ রাখাইন ও বাংলাদেশের টেকনাফ উপকূল থেকে মানুষ তুলে নেয়
- স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে কর্তৃপক্ষের চোখ এড়ানো হয়
- মালয়েশিয়ায় ইতিমধ্যে ২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করায় এটিই প্রধান গন্তব্য
বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা
এই ট্রানজিট রুট শুধু রোহিঙ্গারাই নয়, অনিয়মিত পথে মালয়েশিয়া যেতে চাওয়া বাংলাদেশি অভিবাসীরাও ব্যবহার করেন। এই বিপজ্জনক পথে জীবনের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। সরকার অনুমোদিত বৈধ পথে মালয়েশিয়া যেতে BOESL বা নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্সির সাহায্য নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
সূত্র: মানবজমিন
