সৌদি আরব একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে — বাংলাদেশি কর্মীরা এখন থেকে আইনি জটিলতা ছাড়াই নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে ইকামা (আবাসিক পরিচয়পত্র) নবায়ন করতে পারবেন, যদি তাদের মূল স্পনসর ইকামা নবায়ন করতে ব্যর্থ হন। এই ঘোষণাটি আসে ঢাকায় বাংলাদেশ-সৌদি আরব উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে।
নতুন নীতির মূল বিষয়সমূহ
- ইকামা নবায়নে নমনীয়তা: মূল স্পনসর ইকামা নবায়ন না করলে কর্মী নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে নবায়ন করতে পারবেন।
- আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি: এতদিন পুরনো স্পনসর নবায়ন না করলে কর্মীরা আইনি ঝামেলায় পড়তেন, এখন সেই বাধা দূর হবে।
- সুরক্ষিত কর্মসংস্থান: প্রায় ৩০ লক্ষ বাংলাদেশি কর্মী সৌদিতে কর্মরত আছেন, এই নীতি তাদের জন্য বড় সুরক্ষা।
ঢাকা-রিয়াদ বৈঠকে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
- যৌথ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: বাংলাদেশ সৌদি আরবে একটি যৌথ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে দক্ষতা উন্নয়ন, আরবি ভাষা শিক্ষা এবং সৌদি আইন ও সংস্কৃতির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
- ২০৩৪ বিশ্বকাপে নিয়োগের সুযোগ: বাংলাদেশ ২০৩৪ ফিফা বিশ্বকাপের আগে দক্ষ কর্মীদের বৃহত্তর নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।
- স্বাস্থ্য, নির্মাণ, আইটি ও আতিথেয়তায় দক্ষ কর্মী: সৌদি পক্ষ জানিয়েছে তারা বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি দক্ষ পেশাদার নিয়োগ দিতে আগ্রহী।
- নতুন শ্রম চুক্তি: বাংলাদেশের অনুমোদিত নতুন নিয়োগ চুক্তি সৌদির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
- কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ সৌদি সম্পর্ককে একটি সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে।
প্রবাসীদের জন্য করণীয়
যদি আপনার মূল স্পনসর ইকামা নবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানান বা ব্যর্থ হন, তাহলে:
- দ্রুত বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করুন
- নতুন নিয়োগকর্তার সাথে চুক্তি নিশ্চিত করুন
- সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের সেবাকেন্দ্রে আবেদন করুন
- অবৈধ দালালদের এড়িয়ে চলুন
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার
