চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় নিয়ে গিয়ে সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে আটকে রাখা ৫৮৩ জন বাংলাদেশি কর্মী জুন মাসে দেশে ফিরে এসেছেন। ১ জুলাই ২০২৬ ভোরে সর্বশেষ ১০৯ জন থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইট TG-339-এ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এই ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় মানব পাচার-সংক্রান্ত উদ্ধার অভিযান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
কীভাবে তারা ফাঁদে পড়লেন?
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালরা তাদের কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ বা কাস্টমার সার্ভিস অফিসার হিসেবে উচ্চ বেতনের চাকরির অফার দিয়েছিল। তারা BMET ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বৈধভাবে কম্বোডিয়ায় পৌঁছালেও সেখানে মাত্র এক মাসের ভিজিট ভিসা দেওয়া হয় — ওয়ার্ক পারমিটের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। বিমানবন্দর থেকেই বাংলাদেশি দালালরা তাদের গ্রহণ করে সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে সরিয়ে নেয়।
কম্পাউন্ডে যা ঘটত
- বিদেশি নাগরিকদের টার্গেট করে অনলাইন জালিয়াতিতে বাধ্য করা হতো
- লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না করলে শারীরিক নির্যাতন ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো
- কম্পাউন্ডের ভেতরে আলাদা টর্চার সেল ছিল
- পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হতো
উদ্ধার ও সহায়তা
কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে কম্পাউন্ডে হানা দিলে স্ক্যাম চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায় এবং শ্রমিকরা মুক্তি পান। বিমানবন্দরে তাদের সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং ও বাড়ি ফেরার আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়।
পরিসংখ্যান ও সতর্কতা
- BMET ডেটা অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫,৯২১ জন বাংলাদেশি কর্মের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়া গেছেন
- জুনে শুধু ৪ দিনেই ৩৬২ জন ফিরেছেন
- হাজার হাজার বাংলাদেশি এখনও সেখানে মানবেতর পরিস্থিতিতে আটকে থাকতে পারেন
ব্র্যাকের শরিফুল হাসান বলেছেন, এটি বিপজ্জনক মানব পাচারের একটি রূপ। ভুক্তভোগীরা ইতোমধ্যে মামলা করতে শুরু করেছেন।
সতর্কতা: কম্বোডিয়া, মিয়ানমার বা থাইল্যান্ড সীমান্ত দিয়ে অনলাইন কাজের প্রলোভনে পা দেবেন না। Facebook, WhatsApp, Telegram-এ আসা ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন থেকে সাবধান।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার ও ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম
