কোরিয়া ইপিএস (Employment Permit System) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও দুই থেকে তিন বছর ধরে কোরিয়া যেতে না পেরে হতাশ হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মী বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় তারা দ্রুত কোরিয়া যাওয়ার ব্যবস্থা ও 'অটো-রোস্টার' পদ্ধতি চালুর দাবি জানান।
কতজন কর্মী আটকে আছেন?
বিক্ষোভকারীরা জানান, মূলত ২০২২ ও ২০২৩ সালের ইপিএস ব্যাচের প্রায় ১২,০০০ কর্মী এখনো কোরিয়া যাওয়ার সুযোগ পাননি। অনেকের ইপিএস সার্টিফিকেটের মেয়াদও ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
পাঁচ বছরে কোটার মাত্র ৩৭% পূরণ
- গত পাঁচ বছরে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের জন্য মোট ৩৯,২৫৫ জন কর্মীর কোটা বরাদ্দ করেছে
- কিন্তু বোয়েসেল মোট ১৭,২৪৭ জনের জব অর্ডার পেয়েছে
- এর মধ্যে পাঠানো হয়েছে মাত্র ১৪,৮২৯ জনকে — অর্থাৎ কোটার মাত্র ৩৭ শতাংশ
বিক্ষোভকারীদের দাবি
- বাদ পড়া কর্মীদের 'অটো-রোস্টার' পদ্ধতিতে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা
- নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
- বোয়েসেল ও মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি বন্ধ করা
- নতুন ইপিএস সার্কুলার স্থগিত রাখা যতক্ষণ না আটকে থাকা কর্মীদের সমস্যা সমাধান হয়
সরকারের প্রতিক্রিয়া
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বিক্ষোভকারীদের সাথে বৈঠক করে জানান, সরকার 'অটো-রোস্টার' পদ্ধতি চালু করার চেষ্টা করছে এবং কোরিয়া যেতে না পারা কর্মীদের জন্য বিকল্প দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারেননি।
ইপিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ
- বোয়েসেলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিয়মিত আপডেট দেখুন
- আপনার ইপিএস সার্টিফিকেটের মেয়াদ যাচাই করুন
- অনুমোদিত চ্যানেলের বাইরে কোনো দালালকে অর্থ পরিশোধ করবেন না
সূত্র: বণিক বার্তা (ইংরেজি)
