বাংলাদেশ সরকার আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এই পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরেছেন। ৭–৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে একাধিক বিবৃতিতে এই লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করা হয়।
বর্তমান প্রশিক্ষণ অবকাঠামো
- দেশজুড়ে ১১০টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ চলছে
- এর মধ্যে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ও ৬টি মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট (আইএমটি) রয়েছে
- ৫৫টি ট্রেডে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে
ডিজিটাল প্রবাসী কার্ড
সরকার শীঘ্রই ডিজিটাল প্রবাসী কার্ড চালু করবে। এই কার্ডে থাকবে:
- ব্যক্তিগত তথ্য ও QR কোড ভেরিফিকেশন
- ব্যাংকিং সুবিধা ও বীমা সংযুক্তি
- জরুরি সহায়তা প্রাপ্তির সুবিধা
ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম (OEP)
অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ডিজিটাল OEP প্ল্যাটফর্ম চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে অনলাইনে মাইগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স ও ডকুমেন্ট জমা দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়াও ডিজিটাল ওয়ার্কার ডেটাবেস তৈরি হচ্ছে, যেখানে বিদেশি নিয়োগকর্তারা সরাসরি দক্ষ কর্মী খুঁজে নিতে পারবেন।
শ্রমবাজার বৈচিত্র্য
মধ্যপ্রাচ্যের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিকে নতুন শ্রমবাজার প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের কারণে এই অঞ্চলে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে।
অভিবাসন সংস্কারের মূল চার অগ্রাধিকার
- প্রক্রিয়া সহজীকরণ: ওয়ান-স্টপ সেবা চালু করে দালালের হস্তক্ষেপ কমানো
- ব্যয় হ্রাস: অভিবাসন খরচ কমানো যাতে সাধারণ মানুষ সহজে বিদেশে যেতে পারেন
- দক্ষ জনশক্তি তৈরি: স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম এবং বৃহত্তর প্রশিক্ষণ উদ্যোগ
- প্রবাসী কল্যাণ: বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্মিলন সহায়তা ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি
