গত ২২ জুন, ২০২৬ তারিখে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তিসহ মোট তিনটি দ্বিপাক্ষিক দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনওয়ার ইব্রাহিম এবং বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষার প্রশ্নে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
স্বাক্ষরিত চুক্তিসমূহ
শীর্ষ বৈঠকে নিম্নলিখিত তিনটি দলিল স্বাক্ষরিত হয়:
- সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সমঝোতা স্মারক (MOU) — দুই দেশের মধ্যে শিল্প, সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিনিময় বাড়ানোর লক্ষ্যে।
- সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা সহযোগিতা চুক্তি — আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করতে দুই দেশের গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তথ্য ভাগাভাগি।
- বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি — মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশে মালয়েশিয়ান বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে।
শ্রমিক নির্যাতন বন্ধে আনওয়ারের প্রতিশ্রুতি
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনওয়ার ইব্রাহিম বৈঠকে স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দেন যে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর যেকোনো ধরনের নির্যাতন ও শোষণ বন্ধ করা হবে। তিনি জানান, শ্রমিক পাচার ও অবৈধ নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়া সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতার আবেদন
তারেক রহমান বৈঠকে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রায় পাঁচ লাখ অনিবন্ধিত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধ করার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক জনশক্তি চুক্তির আওতায় শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার আহ্বানও জানানো হয়।
অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য তাৎপর্য
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চুক্তিগুলো বাস্তবায়িত হলে মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিকের আইনি সুরক্ষা অনেকটাই নিশ্চিত হবে। বিশেষত সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: বিডি প্রতিদিন (ইংরেজি), মাইগ্র্যান্ট অ্যাফেয়ার্স ইনফো
