গরুর খামারে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে রাশিয়া পাঠানো হয় টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কোকডাহারা ইউনিয়নের পাঁচ্ছারান গ্রামের মৃদুল খানকে। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। ২১ জুন ২০২৬ (শনিবার) রাতে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে একটি ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন বলে পরিবার জানিয়েছে।
কীভাবে গেলেন রাশিয়ায়?
মৃদুলের বাবা সাইদ খান জানান, তার ছেলে গত ২৯ জানুয়ারি ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়ায় যান। তাকে বলা হয়েছিল একটি গরুর খামারে কাজ করতে হবে। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর বোঝা যায় আসল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো।
সাইদ আরও অভিযোগ করেন, তার ছেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধসংক্রান্ত ভিডিও পোস্ট করায় দালালচক্র তাকে হুমকি দিয়েছিল।
পরিবারের আর্তি ও সরকারের কাছে দাবি
- ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা
- প্রতারক এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা
মৃদুলের মা মায়া বেগম বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। পরিবার বলছে, ঘটনা সম্পর্কে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হলেও কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি।
সাবধানতা: রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভন এড়িয়ে চলুন
এর আগেও রাশিয়ায় কৃষিকাজ বা নির্মাণকাজ-এর কথা বলে বাংলাদেশিদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। সরকার তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে এবং দূতাবাসকে আটকে পড়াদের উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন:
- বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স ছাড়া কোনো দেশে যাবেন না
- অসম্ভব বেতনের প্রস্তাব দেখলে সন্দেহজনক মনে করুন
- রাশিয়ায় যাওয়ার আগে দূতাবাসে নিবন্ধন করুন
- যেকোনো প্রতারণার তথ্য প্রবাসী সহায়তা কেন্দ্র (16135)-এ জানান
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার
