সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করেছেন। আজ ৬ জুলাই ২০২৬ সকালে সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন।
সফরের সময় কখন?
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে গ্রীষ্মের পর অর্থাৎ শীতকালীন মৌসুমে এই সফর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও যুবরাজ এমবিএস-কে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ দিয়েছেন।
এই সফর কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- ঐতিহাসিক সম্পর্ক: সত্তরের দশক থেকে সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। এই সফর সেই সম্পর্ককে "কৌশলগত অংশীদারিত্বে" উন্নীত করার সুযোগ।
- বিনিয়োগের সম্ভাবনা: সৌদি আরবের একটি মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদল আগামী সপ্তাহেই ঢাকায় আসছে বিনিয়োগ আলোচনা করতে। অবকাঠামো, পর্যটন, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও কৃষি শিল্পে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হবে।
- শ্রম বাজারে প্রভাব: ২০২৫ সালে সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে রেকর্ড ৭.৫ লাখ কর্মীকে ভিসা দিয়েছে। এই সফর ভবিষ্যতে আরও বেশি কর্মসংস্থানের পথ খুলে দিতে পারে।
- প্রবাসী সুরক্ষা: সৌদি আরবে ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত। তাদের অধিকার, ইকামা নবায়ন ও শ্রম আইন সংক্রান্ত বিষয়গুলোও এজেন্ডায় থাকতে পারে।
সৌদি আরব বলছে কী?
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, "বাংলাদেশ সৌদি আরবের সঙ্গে একটি কৌশলগত, সামগ্রিক ও বিশেষ সম্পর্ক চায়।" সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রথম বিদেশি দূত হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
প্রবাসীদের জন্য কী সুযোগ আসছে?
এই সফর সফল হলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও বেশি খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিওম, রেড সি প্রজেক্ট ও ভিশন ২০৩০-এর মেগা প্রকল্পে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের আরও বেশি চাহিদা তৈরি হওয়ার আশা রয়েছে।
সূত্র: আরব নিউজ
