চার মাস ধরে টানা বৃদ্ধির পর অবশেষে সুখবর — জুলাই ২০২৬ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-এ জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে যে শিপিং বিপর্যয় হয়েছিল, তা স্বাভাবিক হওয়া শুরু করেছে। এই সংবাদ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিশেষ আশার আলো।
বর্তমান জুন মাসের জ্বালানি দর
- সুপার ৯৮: প্রতি লিটার ৩.৯৫ দিরহাম
- স্পেশাল ৯৫: প্রতি লিটার ৩.৮৩ দিরহাম
- ই-প্লাস ৯১: প্রতি লিটার ৩.৭৬ দিরহাম
- ডিজেল: প্রতি লিটার ৪.৩৩ দিরহাম
কেন এত বেড়েছিল দাম?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত শুরুর পর থেকে ইউএই-তে জ্বালানির দাম ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায়। ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। এই সময়কালে সুপার ৯৮-এর দাম মাত্র ফেব্রুয়ারিতে ছিল ২.৪৫ দিরহাম, যা জুনে বেড়ে ৩.৯৫ দিরহামে দাঁড়ায় — অর্থাৎ ৬১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি।
কেন কমছে দাম?
- ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমেছে: মে মাসে যেখানে ব্যারেল প্রতি গড়ে ১০৬ ডলার ছিল, তা জুনে ৭২.৫ ডলারে নেমে এসেছে — যুদ্ধ-পূর্ব স্তরে ফিরে এসেছে বাজার।
- হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক: CNN ও MarineTraffic-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় যে পরিমাণ জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করছে, তা ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ।
- ইউএই জ্বালানির মূল্য মাসিক গড় অনুযায়ী নির্ধারিত: জুন মাস জুড়ে দাম কম থাকায় জুলাই মাসের দামও কম হবে।
প্রবাসীদের জন্য এর মানে কী?
ইউএই-তে প্রায় ১০ লক্ষের বেশি বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত আছেন। জ্বালানি দাম কমলে পরিবহন ব্যয়, নিত্যপণ্যের দাম এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ সামগ্রিকভাবে কমে আসে। যাদের নিজস্ব গাড়ি আছে, তাদের জন্য ৬০ লিটারের ট্যাংকে আনুমানিক ১৫-২০ দিরহাম সাশ্রয় হতে পারে।
তবে নতুন কোনো সংঘাত বা হরমুজে নতুন বিঘ্ন না ঘটলেই এই পূর্বাভাস কার্যকর হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্র: গালফ নিউজ
