কাতারের রাস লাফান শিল্প এলাকার বার্জান লোকাল গ্যাস সাপ্লাই ফ্যাসিলিটিতে রোববার (২২ জুন, ২০২৬) রাতে মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটেছে। কাতার এনার্জির এই বিশাল এলএনজি প্ল্যান্টে দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ৬৬ জন আহত হয়েছেন। কাতারে প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন, তাই এই সংবাদ বাংলাদেশি প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্য গভীর উদ্বেগের।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?
কাতারের শক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতার এনার্জির দুটি গ্যাস প্রসেসিং ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই থেকে বন্ধ থাকা উৎপাদন পুনরায় চালু করার সময় এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। কাতার এনার্জির সিইও সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
কতটা গুরুত্বপূর্ণ রাস লাফান?
- রাস লাফান বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্রগুলোর একটি
- বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৭ কোটি ৭০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি
- মার্চের হামলায় কাতারের প্রায় ১৭% রপ্তানি সক্ষমতা কমে গিয়েছিল
- বিস্ফোরণের শব্দ ৭০ কিলোমিটার দূরে রাজধানী দোহায়ও অনুভূত হয়েছে
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য করণীয়
- রাস লাফান বা আশেপাশের কর্মরত প্রিয়জনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করুন
- কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের হটলাইনে যোগাযোগ করুন: +974 4483 1441
- আহতদের জন্য কাতারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পূর্ণ সহায়তার কথা জানিয়েছে
- কাতার এনার্জি নিশ্চিত করেছে, প্ল্যান্টের রপ্তানি সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে
পরিস্থিতি এখন কেমন?
কাতার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার কাজ চলছে। তবে মার্চের ইরানি হামলার পর হরমুজ প্রণালি পরিস্থিতি এবং এলএনজি পুনরায় উৎপাদন চালুর কাজে একাধিক জটিলতা রয়েছে। কাতারে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের সর্বশেষ অবস্থা জানতে বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার / রয়টার্স
