বাংলাদেশ থেকে জাপানে এক লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জাপান সরকারের এসএসডব্লিউ (Specified Skilled Worker) কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মীদের নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিক প্রস্তুতি নিলে বাংলাদেশ জাপানের বিশাল শ্রমবাজারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবে।
জাপানের এসএসডব্লিউ (SSW) কর্মসূচি কী?
জাপান সরকার ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে ১৬টি খাতে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে।
- মোট কোটা: ৮,২০,০০০ কর্মী (২০২৯ মার্চের মধ্যে, ১৬ খাতে)
- বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রা: ১ লাখ কর্মী
- সম্ভাব্য সর্বোচ্চ অংশ: বিশেষজ্ঞ মতে জাপানের মোট চাহিদার ৪০% পর্যন্ত, অর্থাৎ ৩ লাখেরও বেশি
এসএসডব্লিউ ভিসায় যেসব খাতে সুযোগ
- নির্মাণ ও ভবন পরিচ্ছন্নতা
- কৃষি, মৎস্য ও খাদ্য উৎপাদন
- শিল্প মেশিন তৈরি ও মেটাল প্রক্রিয়াকরণ
- ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি
- বিমান ও জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ
- বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী সেবা (কেয়ারগিভিং)
- হোটেল ও আতিথেয়তা এবং রেস্তোরাঁ সেবা
বাংলাদেশে প্রস্তুতি
- অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি: ৯৫টি (জাপান কর্তৃক অনুমোদিত)
- জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: ৫৩টি টিটিসি, ১৫টি হাইব্রিড (অনলাইন) কেন্দ্র
- বেসরকারি ভাষা প্রশিক্ষণ: দেশজুড়ে ২০০-এরও বেশি প্রতিষ্ঠান
- ছাত্র ভিসায় জাপান: ২০২৫ সালে ৪,০০০ শিক্ষার্থী গেছেন; ২০২৬-এর লক্ষ্যমাত্রা ১০,০০০
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সহায়তা
জাপানে যেতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সহজ শর্তে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে — ভাষা প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য প্রস্তুতির খরচ মেটাতে।
জাপান যেতে কী প্রয়োজন
- জাপানি ভাষা দক্ষতা (N4/JLPT বা সমমান)
- নির্দিষ্ট খাতে দক্ষতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে
- বৈধ পাসপোর্ট ও বয়স ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে হতে হবে
- অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করতে হবে
সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড — জাপানে বাংলাদেশি কর্মী প্রেরণের প্রস্তুতি
