সরকার চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ 'প্রবাসী কার্ড' চালু করতে যাচ্ছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই ঘোষণা দেন। এই কার্ডের মাধ্যমে বিদেশে থাকা কোটি বাংলাদেশি কর্মী এক জায়গা থেকে বিমা, ব্যাংকিং, জরুরি সহায়তা ও কল্যাণ সেবা পাবেন।
প্রবাসী কার্ডে কী কী থাকবে?
- ডিজিটাল পরিচয়পত্র — কর্মীর ব্যক্তিগত তথ্য, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের বিবরণ
- বিমা সেবা — দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্য বিমার সহজ অ্যাক্সেস
- ব্যাংকিং সুবিধা — পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে দ্রুত ও নিরাপদ রেমিট্যান্স পাঠানো
- জরুরি সহায়তা — বিপদে পড়া কর্মীদের দ্রুত আইনি সহায়তা ও উদ্ধার সেবা
- কল্যাণ সেবা — প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সব সুবিধা এক প্ল্যাটফর্মে
রেমিট্যান্স প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে
সরকার ২.৫% নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে, যা শুধুমাত্র বৈধ ও আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত স্বল্প সুদে অভিবাসন ঋণ চলমান থাকবে।
দক্ষ কর্মী তৈরির পরিকল্পনা
- আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল সনদ প্রদানের জন্য 'স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম' চালু
- দেশে ৭,৫০০ জন ও বিদেশে ১,০০০ জন প্রশিক্ষক দিয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ
- বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্ল্যাটফর্মের (OEP) মাধ্যমে অভিবাসন প্রক্রিয়া পূর্ণ ডিজিটাইজেশন
কারা পাবেন প্রবাসী কার্ড?
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক ও পেশাদার কর্মীরা এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত আবেদন প্রক্রিয়া শীঘ্রই probashi.gov.bd এবং বিএমইটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে।
নতুন শ্রমবাজার খোঁজার লক্ষ্যমাত্রা
সরকার আগামী অর্থবছরে ১৪ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া ও উত্তর মেসিডোনিয়াসহ নতুন দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো (ইংরেজি)
