বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মসংস্থান খুঁজতে যাওয়া প্রবাসী শ্রমিকরা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিবাসন ব্যয় বহন করছেন, অথচ সুরক্ষা ব্যবস্থা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে বাংলাদেশ সস্তা শ্রম রপ্তানির ফাঁদে আটকে আছে।
চলতি বছরে ১০ লাখের বেশি কর্মী বিদেশ গেছেন
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ৭১ হাজার ৫৭০ জন বাংলাদেশি বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবেই গেছেন ৭ লাখ ১২ হাজার ৪৪ জন — মোট সংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি দেশের উপর এই অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
নারী অভিবাসন কমেছে ৪৭ শতাংশ
বিএমইটির তথ্য দেখাচ্ছে, ২০২২ সালে মহিলা কর্মীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৪৬৬ জন। ২০২৫ সালের মধ্যে এটি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৬ হাজার ২৯২ জনে — প্রায় ৪৭ শতাংশ হ্রাস। নারী কর্মীদের নিরাপদ ও দক্ষ বিদেশ গমনে কোনো কার্যকর কৌশল নেই বলে অভিযোগ বিশ্লেষকদের।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ কমছে
গত পাঁচ বছরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ ১ হাজার ২১৭ কোটি টাকা থেকে কমে ৮৫৫ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যা জাতীয় ব্যয়ের মাত্র ০.০৮ শতাংশ। অথচ প্রবাসীরা বার্ষিক ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। শরণার্থী ও অভিবাসন গবেষণা ইউনিটের অধ্যাপক তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, "বরাদ্দ কমানো পরিষ্কার বার্তা দেয় যে অভিবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ সরকারের অগ্রাধিকার নয়।"
নেপালের চেয়ে ৩-৪ গুণ বেশি খরচ বাংলাদেশিদের
- একই বাজারে প্রবেশ করতে বাংলাদেশি শ্রমিকরা নেপালিদের তুলনায় ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি খরচ করেন
- মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্যে রিক্রুটমেন্ট খাত নিয়ন্ত্রণহীন
- সরকার খরচের সিলিং ঠিক করলেও প্রয়োগে ব্যর্থতার অভিযোগ
- প্রতি অভিবাসীর কাছ থেকে কল্যাণ তহবিলে ৩,৫০০ টাকা নেওয়া হলেও তা প্রশাসনিক কাজে ব্যয় হচ্ছে
বিশেষজ্ঞরা কী চাইছেন
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের শরীফুল হাসান বলেন, "বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ করাটাই প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।" বিশেষজ্ঞরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছেন একটি "জাতীয় মাইগ্রেশন দশক" পরিকল্পনা ঘোষণার — যেখানে দক্ষতা উন্নয়ন, শ্রমিক কল্যাণ, রিক্রুটমেন্ট সংস্কার ও শ্রম কূটনীতির সমন্বিত রোডম্যাপ থাকবে।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার
