বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি আরও ২৫২টি নতুন ওভারসিজ রিক্রুটিং এজেন্সিকে লাইসেন্স প্রদান করেছে, যার ফলে দেশের মোট লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা রেকর্ড ২,৬৪৬-এ পৌঁছেছে — যা দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ না করে সংখ্যা বাড়ানো পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলবে।
কেন বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন
শ্বেতপত্র প্রণয়নকারী বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, "অনেক পুরনো রিক্রুটিং এজেন্সি অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত। আমরা পুনর্নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগুলো পর্যালোচনা ও বাছাই করার পরামর্শ দিয়েছিলাম।" তিনি আরও বলেন, "গণ্ডগোল পরিষ্কার না করে কর্তৃপক্ষ উল্টো এজেন্সির সংখ্যা বাড়িয়েছে — এটা অবাক করার বিষয়।"
উচ্চ অভিবাসন ব্যয় ও প্রতারণার ফাঁদ
- শ্বেতপত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশি কর্মীরা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ অভিবাসন ব্যয় বহন করছেন
- গত এক দশকে এজেন্টকে আগাম টাকা দিয়েও ১৯ শতাংশ কর্মী বিদেশ যেতে পারেননি
- এর ফলে প্রতি বছর প্রায় ৩১,৬৬০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে
- অভিযোগ থাকলেও প্রতারণামূলক এজেন্সিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না
সরকারের যুক্তি
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, "বেশি এজেন্সি থাকলে সিন্ডিকেটের কারচুপির সুযোগ কমে।" তিনি জানান, প্রতিটি এজেন্সি যদি একজন শ্রমিকও পাঠায় তাহলেও মোট অভিবাসীর সংখ্যা বাড়বে এবং নৈতিক মান বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
কর্মীদের জন্য সতর্কতা
বিদেশ যাওয়ার আগে সবসময় বিএমইটি-নিবন্ধিত ও যাচাইকৃত এজেন্সি ব্যবহার করুন। যেকোনো এজেন্সির লাইসেন্স সত্যতা যাচাই করতে bmet.gov.bd ওয়েবসাইটে যান। আগাম টাকা পরিশোধের আগে চুক্তিপত্র সতর্কতার সাথে পড়ুন এবং কাজের শর্ত নিশ্চিত করুন।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার
