মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বাংলাদেশের বিদেশ কর্মসংস্থানে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে মাসে মাত্র ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৬ জন কর্মী বিদেশে গেছেন, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৩৮ — পতন প্রায় ৪১ শতাংশ।
যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারে নতুন কর্মীর চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে কাজ করা এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিমান রুটটি প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।
বিমান ভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে
- আগে সৌদি রুটে বিমান টিকিটের দাম ছিল ৫০,০০০–৫৫,০০০ টাকা।
- বর্তমানে একই রুটে ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০,০০০–১,০০,০০০ টাকারও বেশি।
- ফ্লাইট বাতিল ও অনিয়মিত চলাচলের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে।
জানুয়ারি–জুন ২০২৬: গন্তব্যভিত্তিক কর্মী পাঠানোর চিত্র
- মোট কর্মী (১ জানুয়ারি–৫ জুন): ৩ লাখ ১৪ হাজার ৩৬২ জন
- সৌদি আরব: ১ লাখ ৯০ হাজার ০৭২ জন
- কাতার: ২৩ হাজার ৭৮০ জন
- কুয়েত: ৮ হাজার ৭৫৩ জন
- জর্ডান: ৭ হাজার ৩৫৩ জন
- সংযুক্ত আরব আমিরাত: ৭ হাজার ১২১ জন
- ইরাক: ৩ হাজার ০৯১ জন
দেশে ফেরত কর্মী
সংঘাতের কারণে বহু কর্মী চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। সরকারি উদ্যোগে ইরান থেকে ২০১ জন এবং বাহরাইন থেকে ২৮২ জন কর্মীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, "বাংলাদেশের শ্রমবাজার দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক। বাজার বৈচিত্র্যায়নে পর্যাপ্ত কাঠামোগত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।" তিনি ইউরোপ, জাপান ও কোরিয়ায় দ্রুত বিকল্প শ্রমবাজার তৈরির আহ্বান জানান।
সূত্র: বাংলা মিরর নিউজ
