যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে এক বড় পরিবর্তন এনেছে। ২৭ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মে আশ্রয়প্রার্থীদের বাধ্যতামূলক ইন্টারভিউ পদ্ধতি সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। এই পরিবর্তন বাংলাদেশিসহ লাখো অভিবাসীর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
আগে কী ছিল?
এতদিন অবৈধ পথে বা বৈধ ভিসায় এসে যারা আশ্রয়ের দাবি করতেন, তারা USCIS (US Citizenship and Immigration Services)-এর একজন প্রশিক্ষিত অফিসারের সঙ্গে ইন্টারভিউ দিতেন। সেই অফিসার তাদের দাবি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতেন।
নতুন নিয়মে কী হবে?
- USCIS এখন থেকে মামলাগুলো সরাসরি ইমিগ্রেশন আদালতে পাঠিয়ে দিতে পারবে।
- আবেদনকারীরা আদালতেই নিজের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে পারবেন।
- এতে মামলার গতি বাড়বে, কিন্তু আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কতটা প্রভাব পড়বে?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই নতুন নিয়মে ৪ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১৪ লাখ পর্যন্ত ঝুলে থাকা অ্যাসাইলাম মামলা ইমিগ্রেশন আদালতে স্থানান্তরিত হতে পারে। এর ফলে জোরপূর্বক বহিষ্কার (ডিপোর্টেশন)-এর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকারের যুক্তি
DHS ও USCIS বলছে, আশ্রয় মামলার বিশাল জট কমাতেই এই পদক্ষেপ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন কঠোর করার নীতির অংশ হিসেবে এটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনের সমালোচনা
অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই পদ্ধতিতে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ কমে যাবে। বাংলাদেশসহ যেসব দেশ থেকে বৈধ ও অবৈধভাবে মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন, তারা অতিরিক্ত ঝুঁকিতে পড়বেন।
বাংলাদেশিদের জন্য পরামর্শ
- যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদন করার আগে অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
- বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম মামলা চলমান থাকলে আইনগত সহায়তা নিন।
- সরকারি ঘোষণা ও আপডেটের দিকে নজর রাখুন।
সূত্র: মানবজমিন
