সৌদি আরবের মন্ত্রিসভা দেশের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি একীভূত জাতীয় ভিসা প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সৌদি আরবে সকল ভিসা সেবা এখন থেকে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে সৌদি আরবে বিভিন্ন ধরনের ভিসার জন্য আলাদা আলাদা প্রক্রিয়া এবং দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করতে হতো। নতুন একীভূত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কারণ ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ডিজিটাল এবং কেন্দ্রীভূত হলে দালালচক্রের প্রভাব কমবে এবং সরাসরি আবেদনের সুযোগ বাড়বে।
ভিসা অব্যাহতি চুক্তি
একই বৈঠকে মন্ত্রিসভা হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান ও পোল্যান্ডের সাথে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি অনুমোদন করেছে। যদিও বাংলাদেশ এই তালিকায় নেই, তবে সৌদি আরবের ডিজিটাল ভিসা অবকাঠামোর উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশসহ অন্যান্য শ্রমপ্রেরণকারী দেশগুলোর জন্যও ইতিবাচক হতে পারে।
সৌদি ডিজিটাল অবকাঠামো
উল্লেখযোগ্যভাবে, সৌদি আরব ২০২৬ সালের আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে বিশ্বে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এই ডিজিটাল অগ্রগতির সুবাদে ভিসা প্ল্যাটফর্মটি শীঘ্রই চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অভিবাসী কর্মীদের জন্য সতর্কতা
সৌদি আরবে গত এক সপ্তাহে ১২,০০০-এরও বেশি অবৈধ অভিবাসী ও সীমান্ত লঙ্ঘনকারীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাই যারা সৌদি আরবে কর্মরত বা যেতে ইচ্ছুক, তারা অবশ্যই বৈধ পথে ভিসা ও ভ্রমণ নিশ্চিত করবেন।
বাংলাদেশিদের জন্য পরামর্শ
- সরকারি উৎস (বোয়েসেল, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) থেকে ভিসা সংক্রান্ত তথ্য নিন।
- কোনো দালালের মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়া করাবেন না।
- নতুন ভিসা প্ল্যাটফর্ম চালু হলে সরাসরি অনলাইনে আবেদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
- ইকামা ও ভিসার মেয়াদ সময়মতো নবায়ন করুন — অন্যথায় ৫০,০০০ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
সূত্র: গালফ নিউজ, ৮ জুলাই ২০২৬। মূল প্রতিবেদন: Saudi cabinet approves unified national visa platform
