৯ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার। হরমুজ প্রণালিতে পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে হামলা চালানোর পর হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারের সংখ্যা স্বাভাবিকের মাত্র এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। এতে গালফ অঞ্চলে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কতটা প্রায় বন্ধ হরমুজ?
স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৮৮টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত। আজ মাত্র ৩৪টি জাহাজ পারাপার করেছে — স্বাভাবিকের মাত্র ৩৯%। ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা হামলার পর সিজফায়ার চুক্তি হুমকিতে পড়েছে এবং ট্যাংকার মালিকরা ঝুঁকি এড়াতে জাহাজ আটকে রাখছেন।
ইরান কাতারের ট্যাংকারেও হামলা করেছে
ইউএইয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান কাতারের "আল রাকেইয়াত" জাহাজে হরমুজ প্রণালি নিকটবর্তী এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এই হামলাকে আন্তর্জাতিক নেভিগেশনের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ রেজুলেশন ২৮১৭ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে ইউএই। কাতার, ইউএই, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডান সকলেই ইরানি হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য কী মানে?
- সৌদি আরবে প্রায় ২৮ লাখ, ইউএই-তে ১০ লাখ, কাতারে ৪.৭ লাখ, কুয়েতে ও বাহরাইনে লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মরত।
- হরমুজ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে, নির্মাণ প্রকল্প স্থগিত হতে পারে এবং নতুন ভিসা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
- আকাশপথ ফের বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ফ্লাইট ভাড়া বাড়তে শুরু করেছে।
- বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে — যেকোনো নতুন নির্দেশনার জন্য দূতাবাসের অফিসিয়াল চ্যানেল অনুসরণ করুন।
কী করবেন এখন?
গালফে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সাময়িক অপেক্ষা করুন। ইতিমধ্যে গালফে থাকলে দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ রাখুন এবং ইকামা / রেসিডেন্সি পারমিট আপ-টু-ডেট রাখুন।
সূত্র: গালফ নিউজ, আরব নিউজ (৯ জুলাই ২০২৬)
