বাংলাদেশ সরকার আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি (১ কোটি) নাগরিককে বিদেশে কর্মসংস্থান দেওয়ার সাহসী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রতি বছর গড়ে ১১-১২ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যাচ্ছেন। বিদেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ পদ খালি রয়েছে।
সরকারের পাঁচটি মূল কর্মকৌশল
- মাইগ্রেশন সংস্কার: এক জায়গায় সেবাকেন্দ্র স্থাপন করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, কর্মী-বিশেষ খরচের কাঠামো তৈরি, দালালের ওপর নির্ভরতা কমানো
- দক্ষতা উন্নয়ন: সারাদেশে ১১০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (TTC) আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষিত কর্মীদের ডিজিটাল ডেটাবেইস তৈরি যাতে নিয়োগকর্তা সরাসরি নিয়োগ করতে পারেন
- বাজার বৈচিত্র্য: মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতি-নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিকে নতুন গন্তব্য খোঁজা
- কল্যাণ উদ্যোগ: ব্যাংকিং সুবিধাসহ ডিজিটাল 'প্রবাসী কার্ড', অনলাইন মাইগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স, প্রস্তাবিত প্রবাসী হাসপাতাল এবং কর্মীদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি
- জাপান ও মালয়েশিয়া ফোকাস: জাপানে ১ লাখ কর্মী পাঠানোর অঙ্গীকার; মালয়েশিয়ায় স্বচ্ছ, শূন্য-খরচের নিয়োগ পদ্ধতিতে নীতিগত সমঝোতা
জাপানে সুযোগ: কর্মীদের দক্ষতাই মূল চাবিকাঠি
প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, "জাপান এখন বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের পারফরম্যান্স, শৃঙ্খলা ও কর্মসংস্কৃতি যাচাই করছে। ভালো মূল্যায়নের পরেই নিয়োগ সম্প্রসারিত হবে।" অর্থাৎ, জাপানে কাজ পেতে হলে ভাষা শিক্ষা ও পেশাদার মনোভাব অপরিহার্য।
মালয়েশিয়া: শূন্য খরচে স্বচ্ছ নিয়োগের পথে
মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি যৌথ কার্যকরী কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যা বিদ্যমান চুক্তি সংশোধন করে স্বচ্ছ ও প্রায়-শূন্য খরচে নিয়োগের পথ খুলবে। এটি চালু হলে বাংলাদেশি কর্মীদের অতিরিক্ত দালালি ফি দেওয়ার সমস্যা অনেকটা কমবে।
প্রতিমন্ত্রীর বার্তা
"আমাদের লক্ষ্য শুধু বেশি কর্মী বিদেশে পাঠানো নয়, বরং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদার সাথে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করা।" — প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক
