অস্ট্রেলিয়া সরকার অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের পথে এগোচ্ছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে সুরক্ষা ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে অস্থায়ী ভিসাধারীদের কাজের অধিকার বাতিল করা এবং ব্রিজিং ভিসায় দীর্ঘদিন থাকার সুযোগ সীমিত করা। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই নীতি পরিবর্তন বাংলাদেশিসহ চীন, ভারত ও মালয়েশিয়ার নাগরিকদের সরাসরি প্রভাবিত করবে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো
- কাজের অধিকার বাতিল: সুরক্ষা ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে অস্থায়ী ভিসাধারীরা আর কাজ করতে পারবেন না
- ব্রিজিং ভিসা সীমা: আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালে দীর্ঘদিন ব্রিজিং ভিসায় থাকার সুযোগ সংকুচিত করা হবে
- আপিল প্রক্রিয়া দ্রুততর: প্রত্যাখ্যাত আবেদনের বিরুদ্ধে আপিলের সময় কমানো
- দ্রুত দেশত্যাগ: অস্থায়ী অভিবাসীদের দ্রুত দেশ ছাড়তে উৎসাহিত করার পদক্ষেপ
বাংলাদেশিদের ওপর প্রভাব
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সুরক্ষা ভিসার আবেদনকারীদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকরাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় আছেন — মূলত ছাত্র ও ভিজিটর ভিসায় আসার পর আবেদন করা ব্যক্তিরা।
প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১,৫৮০টি সুরক্ষা ভিসার আবেদন জমা পড়ে এবং এর প্রায় ৯০ শতাংশ প্রত্যাখ্যাত হয়। নতুন নিয়ম চালু হলে এই প্রত্যাখ্যাত আবেদনকারীরা অবিলম্বে কাজের অধিকার হারাবেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা
অ্যাসাইলাম সিকার সেন্টার বলেছে, কাজের অধিকার কেড়ে নেওয়া হলে আবেদনকারীদের ইচ্ছাকৃতভাবে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো চাইছে প্রক্রিয়া ন্যায্য ও মানবিক রাখতে।
বর্তমান পরিস্থিতি
২০১৭ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ব্রিজিং ভিসাধারীর সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ৪ লাখ ১৩ হাজার-এ পৌঁছেছে। অস্ট্রেলিয়া সরকারের লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে নিট অভিবাসন ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা।
করণীয়
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের পরিকল্পনা করছেন বা ইতিমধ্যে সেখানে আছেন এমন বাংলাদেশিদের পরামর্শ:
- নিজের ভিসার মেয়াদ ও আবেদনের অবস্থান নিয়মিত পরীক্ষা করুন
- সঠিক আইনি পরামর্শ নিন
- বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাথে যোগাযোগ রাখুন
- নতুন নীতিমালার আপডেটের জন্য অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুসরণ করুন
সূত্র: মানবজমিন অনলাইন
