সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে গৃহকর্মী নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগে দেশটির ৪২টি নিবন্ধিত নিয়োগ অফিসের বিরুদ্ধে মোট ১৩৫টি আর্থিক ও প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করেছে। ইউএই মানব সম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রণালয় (MoHRE) সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, এই তথ্য প্রকাশ করে।
কী ধরনের আইন লঙ্ঘন হয়েছে?
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই ধরনের লঙ্ঘন চিহ্নিত হয়েছে:
- ১০৬টি লঙ্ঘন: গৃহকর্মীকে অফিসে ফেরত দেওয়া বা কর্মত্যাগের খবর পাওয়ার পর নির্ধারিত দুই সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগকর্তাকে রিক্রুটমেন্ট ফি ফেরত না দেওয়া।
- ২৯টি লঙ্ঘন: গৃহকর্মী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনায় অনুমোদিত শর্ত ও পদ্ধতি অনুসরণ না করা।
আইনি বাধ্যবাধকতা কী?
গৃহকর্মী সম্পর্কিত ফেডারেল ডিক্রি-আইনের কার্যকর বিধিমালা অনুযায়ী, নিয়োগ অফিসকে গৃহকর্মী ফেরত দেওয়ার তারিখ বা কর্মত্যাগের বিষয়টি রিপোর্ট করার পর থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগকর্তার প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
নজরদারি কার্যক্রম
ইউএই-তে বর্তমানে ১৩৮টি নিবন্ধিত ও সক্রিয় গৃহকর্মী নিয়োগ অফিস রয়েছে। MoHRE জানিয়েছে, এই অফিসগুলো নিয়মিত পরিদর্শন, ট্র্যাকিং ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে — শুধু লঙ্ঘন শনাক্ত করতে নয়, বরং পেশাদার চর্চা প্রবর্তন এবং খাতটি দক্ষতার সাথে পরিচালনা নিশ্চিত করতেও।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য তাৎপর্য
ইউএই বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম শ্রম গন্তব্য। বিশেষত গৃহকর্মী হিসেবে অনেক বাংলাদেশি নারী এই দেশে কর্মরত আছেন। নিয়োগ এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফি ফেরতের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষায় ইতিবাচক পদক্ষেপ।
সূত্র: গালফ নিউজ
