দক্ষিণ কোরিয়া তাদের এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস)-এর আওতায় ই-নাইন ভিসার সংখ্যা ২০২৬ সালে ৮০,০০০-এ কমিয়ে এনেছে — যা গত তিন বছরে দ্বিতীয়বার হ্রাস। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় হলো, গত পাঁচ বছরে বরাদ্দ পাওয়া কোটার মাত্র ৩৭ শতাংশ কাজে লাগাতে পেরেছে দেশটি।
কোটা হ্রাসের ধারা
- ২০২৪ সালে: ১,৬৫,০০০ ই-নাইন ভিসা
- ২০২৫ সালে: ১,৩০,০০০ ই-নাইন ভিসা (২১% হ্রাস)
- ২০২৬ সালে: ৮০,০০০ ই-নাইন ভিসা (৩৮% হ্রাস)
কোরিয়ান সরকার বলছে, কোভিড মহামারির পরে বিদেশি কর্মীর চাহিদা যতটা বেড়েছিল, তা এখন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এসেছে। উৎপাদন ও নির্মাণখাতে শূন্যপদ কমে গেছে।
বাংলাদেশের হতাশাজনক পরিসংখ্যান
বোনিক বার্তার তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে কোরিয়া বাংলাদেশের জন্য মোট ৩৯,২৫৫টি স্লট বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্তু বোয়েসেল মাত্র ১৭,২৪৭টি জব অর্ডার পেয়েছে এবং প্রকৃতপক্ষে পাঠাতে পেরেছে মাত্র ১৪,৮২৯ জন কর্মী — মোট বরাদ্দের মাত্র ৩৭%।
- ২০২৪: ১১,৭০০ কোটার বিপরীতে মাত্র ২,৭৭৯ জন পাঠানো হয়েছে (২৪%)
- ২০২৫ (সেপ্টেম্বর পর্যন্ত): ১০,৩০০ কোটার বিপরীতে মাত্র ১,২৪৪ জন
তুলনামূলক চিত্র — প্রতিবেশী দেশগুলো এগিয়ে
- নেপাল: ২০২৪ সালে ১৬,৪০০ কোটার বিপরীতে ১৬,৩০০ জন পাঠিয়েছে (৯৯%)
- শ্রীলঙ্কা: ১০,৬৩৪ কোটার বিপরীতে ৭,১২২ জন পাঠিয়েছে (৬৭%)
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইপিএসভুক্ত ৭টি দেশের মধ্যে নিয়োগকর্তার পছন্দের তালিকায় বাংলাদেশ সর্বনিম্নে — ৭ম স্থানে।
সমস্যার মূল কারণ
বোয়েসেলের নির্বাহী পরিচালক জানিয়েছেন:
- ভাষাদক্ষতার ঘাটতি: ভিয়েতনামি, ইন্দোনেশিয়ান, থাই ও নেপালি কর্মীদের তুলনায় বাংলাদেশি কর্মীদের কোরিয়ান ভাষার দক্ষতা অনেক কম
- সাংস্কৃতিক পার্থক্য: কোরিয়ার কাজের সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে নিতে সমস্যা
- নিয়োগকর্তার নিয়ন্ত্রণ: কর্মী বাছাই সম্পূর্ণ HRD কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার নিয়োগকর্তার হাতে; বোয়েসেলের প্রভাব কম
অপেক্ষারত কর্মীদের দুর্ভোগ
২০২২ সালে ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ১,৭০০ জন কর্মী দুই বছরের যোগ্যতার মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পরেও যেতে পারেননি। একজন আবেদনকারী জানান, "এত কঠিন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেও দুই বছর অপেক্ষা করে অনেকে যেতে পারেননি — মানুষ কর্মহীন ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।"
সূত্র: বণিক বার্তা, Korea Herald
