আগামী ২০৩৪ সালে সৌদি আরব ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে। এই বিশাল আয়োজনকে সামনে রেখে দেশটিতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীর চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। গত ৪ আগস্ট ঢাকায় বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌদি মানবসম্পদ উপমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আহমেদ আল-এসার বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
যৌথ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রস্তাব
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি সৌদি-বাংলাদেশ যৌথ প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই ইনস্টিটিউট নিম্নলিখিত সেবা দেবে:
- আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ
- সৌদি আইন ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন
- স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইসিটি ও আতিথেয়তা খাতে কারিগরি প্রশিক্ষণ
- কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও পেশাদার যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতি কাঠামো
২০৩৪ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সুযোগ
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বৈঠকে উল্লেখ করেন যে, ১৫টি স্টেডিয়াম এবং ৫টি শহরে খেলা হওয়ার পরিকল্পনায় অবকাঠামো নির্মাণে বিপুলসংখ্যক কর্মী প্রয়োজন হবে। এই সুযোগে বাংলাদেশ থেকে নির্মাণ, হোটেল ও লজিস্টিক্স খাতে দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী পাঠানো সম্ভব।
সৌদির ইতিবাচক সাড়া
- সৌদি উপমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি ও আতিথেয়তা খাতে দক্ষ কর্মী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন
- মজুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা ও বাধ্যতামূলক বিমা কার্যকর রয়েছে বলে জানিয়েছেন
- আটকে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষমা-সুবিধার বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে বিবেচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন
বাংলাদেশের প্রস্তুতি কী হওয়া উচিত?
- আরবি ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব বাড়ানো
- নির্মাণ ও হোটেল খাতে দক্ষতা সনদ অর্জন
- টাকামল সার্টিফিকেশনে সংযুক্ত হওয়া (সৌদি কর্তৃপক্ষ স্বীকৃত)
- সরকারি মাধ্যমে (বোয়েসেল/বিওইএসএল) নিবন্ধন রাখা
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS)
