বাংলাদেশ সরকার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন (মাইগ্রেন্ট স্মাগলিং) রোধে একটি একক, শক্তিশালী আইন পাস করেছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দফতর (UNODC)-এর সহায়তায় প্রণীত এই আইন বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
আইনে কী আছে?
- মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন — দুটি অপরাধ একই আইনের আওতায়
- দালালদের বিরুদ্ধে ন্যূনতম ১ লাখ টাকা জরিমানা থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
- অভিবাসী আহত বা নিহত হলে — যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান
- সোশ্যাল মিডিয়া বা অনলাইনে কর্মী সংগ্রহ করা দালালদেরও শাস্তি
- তদন্ত প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত
কেন এই আইন দরকার ছিল?
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ বিদেশে কাজের স্বপ্নে বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে যাত্রা করেন। পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশ থেকে ফেরত আসা অভিবাসীদের প্রায় ৮০ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক দালাল বা ব্যক্তিগত পরিচিতির মাধ্যমে বিদেশে যান। এই দালালরা প্রায়ই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিবাসীদের শোষণ করে, অনিরাপদ পথে পাঠায়।
সম্প্রতি ঘটনা যা আইন পাসকে জরুরি করেছিল
- গত বছর লিবিয়া উপকূলে একটি নৌকাডুবিতে ২৩ বাংলাদেশি নিহত হন
- তার আগের বছর একই ধরনের ঘটনায় ৮ জন প্রাণ হারান
- দালালদের প্রলোভনে পড়ে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশিরা ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশে পাড়ি জমান
সরকারের অবস্থান
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের বলেন, "নতুন আইনের মাধ্যমে মাইগ্রেন্ট স্মাগলিং অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
সাবধানতা: বিদেশে যেতে সর্বদা সরকারি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি বা বোয়েসেলের মাধ্যমে আবেদন করুন। দালালের মাধ্যমে গেলে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, এখন আইনি ঝুঁকিও বেড়েছে দালালদের জন্য।
