গালফ অঞ্চলে বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার সুখবর আসছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান-ওমান আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই এই চুক্তি হবে এবং তা হলে ইরানি বন্দরের অবরোধ উঠে যাবে — যা মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত লক্ষাধিক বাংলাদেশির জীবনে বড় পরিবর্তন আনবে।
হরমুজে কী ঘটছে?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের তেল বাণিজ্যের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে যায়। ইরান এই সময়ে অনুমতিপত্র ছাড়া যাওয়া জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে।
চুক্তি কতটা কাছে?
- ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ইরান ও ওমান হরমুজের নতুন শিপিং রুট নিয়ে "অনেকটাই একমত"
- ওমান বলেছে আলোচনা "ইতিবাচক ও গঠনমূলক"
- মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, "আমরা শীঘ্রই একটি চুক্তির প্রত্যাশা করছি"
- চুক্তি হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরের অবরোধ তুলে নেবে
তবে বাধা কোথায়?
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষ্কার করেছেন যে শুধু ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলেই প্রণালি খুলে যাবে না। ইরান চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দিক এবং আগের শিপিং নীতির পরিবর্তন হোক। তবে ওমানের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রুট চালু করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের উপর প্রভাব
- সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মরত
- হরমুজ সংকটে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশি শ্রমিকদের জীবনমানে সরাসরি প্রভাব ফেলছে
- চুক্তি হলে তেলের দাম কমবে, গালফ দেশগুলোর অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে এবং প্রবাসী কর্মীদের জীবনও স্বাভাবিক হবে
- ইউএই গত শনিবার (৮ আগস্ট) নিশ্চিত করেছে যে ইরান হরমুজে আবার একটি ADNOC তেল ট্যাংকারে আঘাত করেছে — চুক্তির প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে
কী করবেন প্রবাসীরা?
বর্তমান পরিস্থিতিতে গালফ অঞ্চলের প্রবাসীদের দূতাবাসের নির্দেশনা মেনে চলতে এবং জরুরি সতর্কতা অনুসরণ করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা এলে বিদেশ যাত্রা তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করবে।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার
