হরমুজ প্রণালিতে সংকট আবার মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ১৪ জুলাই ২০২৬ (মঙ্গলবার) রাত ৮টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করেছে এবং ইরানের বেশ কয়েকটি বন্দর শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে কুয়েত ও বাহরাইনে — যেখানে লক্ষাধিক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মরত।
জুন ১৭-র শান্তিচুক্তি কেন ভাঙল?
গত ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছিলেন, যাতে হরমুজ অবরোধ উঠিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাত্র ৩ দিন পরে ২০ জুন ইরান ইসরায়েলি পদক্ষেপকে চুক্তির লঙ্ঘন দাবি করে পুনরায় প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে। এরপর থেকে পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হয় এবং ১৪ জুলাই মার্কিন নৌবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ পুনরায় কার্যকর করে।
১৪-১৫ জুলাইয়ের ঘটনাবলী
- মার্কিন বাহিনী ইরানের সিরিক, বন্দর আব্বাস, আবাদান, মাহশাহর এবং কেশম ও কিশ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে
- ইরানের বিপ্লবী গার্ড (IRGC) ওমানের জলসীমায় দুটি সুপারট্যাংকারে আঘাত করেছে — এতে একজন নাবিক নিহত হয়েছেন
- ইরান কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে
- কাতার ট্যাংকার হামলার নিন্দা জানিয়েছে; ওমান আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে
- আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO) "এই উসকানির চক্র অবশ্যই বন্ধ করতে হবে" বলে বিবৃতি দিয়েছে
গালফে বাংলাদেশিদের জন্য ঝুঁকি
- কুয়েত: প্রায় ৩ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত — ইরানের সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ায় চরম উদ্বেগ
- বাহরাইন: ইরানের আক্রমণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত; বাংলাদেশ দূতাবাস সতর্কতা জারি করেছে
- কাতার ও UAE: গত সপ্তাহের হামলার পর এখনও কয়েক লাখ বাংলাদেশি উচ্চ ঝুঁকিতে
- হরমুজ দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে
প্রবাসীদের জন্য জরুরি পরামর্শ
- দূতাবাস/কনস্যুলেটের হটলাইনের সাথে যোগাযোগ রাখুন
- পরিবারকে নিয়মিত খবর দিন ও নিজের অবস্থান জানান
- নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত রাখুন; বাইরে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন
- নিয়োগকর্তার নির্দেশনা মেনে চলুন ও হোস্ট দেশের সরকারি নির্দেশ অনুসরণ করুন
সূত্র: আল জাজিরা (১৪ জুলাই ২০২৬)
