কাতার ২০২৬ সালে নতুন শ্রম আইন নং ৯/২০২৬ পাস করেছে, যা দেশটির ১৫ বছর আগের শ্রম আইনে ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে প্রণীত এই আইনটি ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও নমনীয় করতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য এই আইনটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।
নতুন আইনের মূল পরিবর্তনসমূহ
- পার্টটাইম ও ফ্রিল্যান্স কাজ বৈধতা: প্রথমবারের মতো কাতারে পার্টটাইম এবং ফ্রিল্যান্স কাজ আইনিভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- কারিগরি সনদ বাধ্যতামূলক: নতুন আর্টিকেল ২৩(বিস) অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পেশাদার ট্রেডে কাজ শুরুর আগে শ্রম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ ও প���ীক্ষার সনদ নিতে হবে।
- কড়া নিয়োগ এজেন্সি বিধিমালা: বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর লাইসেন্সিং আরও কঠোর হয়েছে এবং মন্ত্রণালয় অনুমোদিত চুক্তি ব্যবহার না করলে ৩,০০০–২৫,০০০ কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
- ধর্মঘটে বিধিনিষেধ: ধর্মঘট কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে — সর্বোচ্চ ৬ দিন, বেতনহীন এবং কঠোর শর্ত সাপেক্ষে।
- নন-কম্পিটিশন চুক্তির মেয়াদ দ্বিগুণ: এক বছর থেকে বাড়িয়ে দুই বছর করা হয়েছে।
- যৌথ ব্যবস্থাপনা কমিটি: বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবস্থাপনা ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে যৌথ কমিটি গঠন করতে হবে।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য কী মানে?
- নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য ট্রেডে কাজ করতে হলে এখন থেকে মন্ত্রণালয় স্বীকৃত কেন্দ্র থেকে সনদ নিতে হবে।
- নিয়োগ সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে এখন থেকে আরও কড়া আইনি সুরক্ষা পাওয়া যাবে।
- মজুরি পরিশোধের নজরদারি আরও জোরদার হয়েছে।
বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপট
কাতার সরকারের বক্তব্য, এই সংস্কার "শ্রমিক ও নিয়োগকর্তার অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে শ্রমবাজারের দক্ষতা বাড়াবে।" তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইউএই ও সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতেই মূলত এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
