বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫-এর সাম্প্রতিক সংশোধনীতে শ্রমিকদের অধিকার সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রমিক অধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। ঢাকায় সলিডারিটি সেন্টার আয়োজিত এক স্টেকহোল্ডার সভায় বিশেষজ্ঞরা এই সতর্কবার্তা দেন।
আইএলওর মন্তব্য
বাংলাদেশে আইএলও-র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনোঁ জানান, চলমান শ্রম আইন সংস্কার প্রক্রিয়ায় জরুরিতা ও অন্তর্ভুক্তির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে এবং শ্রমিকদের কণ্ঠস্বরের সুষ্ঠু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। তিনি সংস্কার প্রক্রিয়ায় আইএলওর প্রযুক্তিগত সহায়তার আশ্বাস দেন।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কারণ
- ইউনিয়ন গঠনের অধিকার: আইনগত অধিকার থাকলেও ইউনিয়ন গঠনে কর্মীরা মামলা, চাকরিচ্যুতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিরুৎসাহিত হন। নতুন সংশোধনী এই অধিকারকে আরও সংকুচিত করতে পারে।
- বিচ্ছেদ ক্ষতিপূরণ: কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুতে মাত্র ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ অপর্যাপ্ত এবং সব শ্রমিক তাও পান না।
- ধারা ২৬(১): চাকরি বাতিলে এই ধারার যথেচ্ছ প্রয়োগ বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।
- অপ্রচলিত শ্রমিক: গৃহকর্মী, প্ল্যাটফর্ম কর্মী ও দৈনিক মজুরির শ্রমিকদের স্বীকৃতি দেওয়া হলেও ইউনিয়ন গঠনের গেজেট প্রকাশিত হয়নি।
প্রবাসী কর্মীদের প্রাসঙ্গিকতা
বাংলাদেশের শ্রম আইন দেশের অভ্যন্তরে কর্মরত শ্রমিকদের পাশাপাশি বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের প্রশিক্ষণ, চুক্তি ও অধিকার নির্ধারণেও প্রভাব ফেলে। শ্রমিক সংগঠনগুলো দাবি করছে, এই সংশোধনী বিদেশগামী কর্মীদের ন্যায্য চুক্তি পাওয়ার সুযোগও সংকুচিত করতে পারে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের অবস্থান
সাবেক শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ার সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, "এটি তাড়াহুড়ো করা যাবে না।" তিনি সকলের অধিকার ক্ষুণ্ণ না করে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানান।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার
